মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধন (Birth Registration):

জন্ম নিবন্ধন হলো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্ম সনদ প্রদান করা। জন্ম নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, বয়স, জাতি-গোষ্ঠি, ধর্ম-কিংবা জাতীয়তা সকল নির্বিশেষে বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণকারী প্রত্যেকটি মানুষের জন্য জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে জন্ম নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নিবন্ধনকারীকে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করেন। জন্ম নিবন্ধন আইনের বিধান অনুযায়ী এই বিধি লংঘনকারী নিবন্ধক বা ব্যক্তি অনধিক ৫০০ (পাঁচশত টাকা) অথবা অনধিক দুইমাস বিনাশ্রম কারাদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

 

জন্ম সনদ (Birth Certificate):

জন্ম সনদ অত্যাবশ্যকীয় করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন ২০০৪ প্রণয়ন করে। জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিশু অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আইনটি ৩ জুলাই. ২০০৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় বেশ কিছু ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।  

 

যে সকল ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব রয়েছে (Importance of Birth Certificate):

জন্ম নিবন্ধন হলো একটা মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাষ্ট্র এইভাবে স্বীকার করছে যে, হ্যাঁ,তুমি শিশু রূপে এ রাষ্ট্রের একজন ভবিষ্যৎ নাগরিক হয়ে এসেছো।  তোমাকে এ রাষ্ট্রের স্বীকৃত নাগরিকের  মর্যাদা ও সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণ করতে হয়। সেসব ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেমন –

  • পাসপোর্ট ইস্যু
  • বিবাহ নিবন্ধন
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
  • সরকারী, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগদান
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
  • ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  • জমি রেজিষ্ট্রেশন
  • ব্যাংক একাউন্ট খোলা
  • আমদানী বা রপ্তানী বা উভয় লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সঙযোগ প্রাপ্তি
  • করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি
  • ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • বাড়ির নক্সা অনুমোদন
  • গাড়ি রেজিষ্ট্রেশন
  • ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি
  • বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ
  • শিশু শ্রম প্রতিরোধ

 

(Disadvantage of Non-Registered Birth):

  • বর্তমানে স্কুলগুলোতে ভর্তির সময় বয়স প্রমাণের জন্ম জন্ম নিবন্ধন সনদ চাওয়া হয়। অনেক সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকার কারণে মেধা থাকা সত্ত্বেও ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয় না।
  • অনাকাঙ্ক্ষিত বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শিশুরা নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে বা ষড়যন্ত্রের শিকার হন। এক্ষেত্রে বিচার শুরু করার আগে বা শাস্তি প্রদানের আগে তার বয়স প্রমাণের প্রয়োজন হয়। এজন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ মূল ভূমিকা পালন করে।
  • পড়াশোনা, জীবিকা, ব্যবসা, ভ্রমণ, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন কারণে বিদেশে যেতে প্রয়োজন হয় পাসপোর্টের। পাসপোর্টের আবেদন ফরমের সাথে যেসকল কাগজপত্র জমা দিতে হয় তার মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সনদ একটি।
  • ভোট প্রদান করা সকল নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে ভোটার আবেদন ফরমের সাথে জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হয়।
  • সরকারী চাকুরি বা স্বায়ত্তশাসিত চাকরির ক্ষেত্রেও বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করতে হয়। এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে মেধা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি হাতছাড়া হয়ে যায়।
  • বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়।
  • সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের পর রেজিষ্ট্রেশনের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। এই সনদ না থাকলে এক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।
  • সরকারী-বেসরকারী সেবা ও সম্পদের বরাদ্দ পাওয়া যায় না।
  • ব্যবসা-বাণিজ্য ভালোভাবে করা যায় না। 

 

জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম(Procedure of Birth Registration):

শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। শিশু জন্মের ২ বছরের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন না করালে বাবা-মায়ের জন্য জরিমানা আছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কোনরকম ফি ছাড়া জন্ম নিবন্ধন  করার সুযোগ দেয়া হয়। এ সময় বাড়ানো হয়েছিল ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে দেশের অধিকাংশ শিশু জন্ম নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। জুনের পর জন্মনিবন্ধনের জন্য সরকার একটি ফি ধার্য করেছে। তবে ২ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্মনিবন্ধন যেকোন সময় বিনা ফিতে করানো যাবে। শুধু ২ বছরের বেশি সময় পার হলে এই ধার্যকৃত ফি দিতে হবে।

বয়স

নির্ধারিত ফি

জন্ম তারিখ হতে ২ বছর এর কম

ফ্রি

১৮ বছরের উপরে যাদের বয়স

৫০ টাকা

জন্ম তারিখ হতে ২ বছর পর

পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে প্রতি বছরের জন্য ৫ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার ক্ষেত্রে প্রতি বছরের জন্য ১০ টাকা

জন্ম সনদের ইংরেজী কপি সংগ্রহ

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এলাকায় ৫০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ১০০ টাকা

জন্ম সনদের বাংলা কপি সংগ্রহ

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এলাকায় ২০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ৪০ টাকা

জন্ম সনদের তথ্য সংশোধন

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এলাকায় ১০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ২০ টাকা

 

  • দূতাবাস সমূহে জন্ম নিবন্ধন সনদের ক্ষেত্রে ৫ মার্কিন ডলার, তথ্য সংশোধনের জন্য ২০ মার্কিন ডলার, দ্বিনকল কপির জন্য ১০ মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হয়।
  • ফি প্রদানের পর রসিদ প্রদান করা হয়। 

 

জন্ম নিবন্ধনের জন্য কোথায় আবেদন করবেন?(Where to Apply for Birth Registration?)

  • ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়
  • পৌরসভা
  • সিটি কর্পোরেশন অফিস
  • সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ওয়ার্ড কমিশনারের অফিস

 

জন্ম নিবন্ধন সনদ এর জন্য যে সকল কাগজপত্র প্রদান করতে হয় (Necessary Papers for Birth Registration Certificate):

  • যদি কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জন্মগ্রহণ করে থাকে তবে সেখানকার সার্টিফিকেট/ছাড়পত্র।
  • এস.এস.সি সনদ এর ফটোকপি/ পাসপোর্টের ফটোকপি/আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং এলাকার জনপ্রতিনিধী যেমন-ওয়ার্ড কমিশনার/ ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভার  চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিকত্ব সনদ এর ফটোকপি।

 

জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ (How to get Birth Certificate):

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র জমা দেওয়ার সময় সনদ প্রদানের সম্ভাব্য একটি তারিখ একটি কুপনে লিখে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কুপন প্রদান করে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হয়। জন্ম নিবন্ধন সনদ একটি শক্ত কাগজ (আর্ট পেপার) যেটার উপরে আপনার নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, পিতা-মাতার নাম সহ যাবতীয় তথ্য ছাপানো আছে।  নিচে  সংশি­ষ্ট অফিসারদের স্বাক্ষর থাকে।

 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া (Online Registration for Birth Certificate):

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন (http://bris.lgd.gov.bd/pub/?pg=application_form)। বিভিন্ন ধাপে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। প্রথমে নিবন্ধনকারীর জন্ম স্থান বা স্থায়ী ঠিকানার বিভাগ, জেলা, প্রভৃতি ধাপ পার হয়ে ওয়ার্ড পর্যন্ত নির্বাচন করতে হয়। অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম প্রথমে বাংলায় ও পরবর্তীতে ইংরেজিতে পূরণের পর প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন। সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন পত্রটি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে স্থানান্তিরত হয়ে যায়, আবেদনকারীর আর কোন সংশোধনের সুযোগ থাকে না। অতঃপর পরবর্তী ধাপে প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করলে আবেদন পত্রের মুদ্রিত কপি পাবেন। সনদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত আবেদন পত্রে নির্দেশিত প্রত্যয়ন সংগ্রহ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপিসহ নিবন্ধক অফিসে যোগাযোগ করুন।